লেখকঃ কাজী গণিউর রহমান
রাজবাড়ীতে এক অনন্য সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দুই বোন—ডা. সিলমা সারিকা শশী ও ডা. সিলমা সুবাহ আরশি। ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে একসঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তারা শুধু পরিবারকেই গর্বিত করেননি, বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন সমগ্র রাজবাড়ী।
শিক্ষাজীবন ও সাফল্যের পথ
শশী ও আরশি দুজনেই রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর শশী ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এবং আরশি ভর্তি হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। ২০২২ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর ইন্টার্নশিপ শেষ করে তারা বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন। প্রথম প্রচেষ্টাতেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে তারা নজির স্থাপন করেছেন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
দুই বোনের এই অসাধারণ সাফল্যে বাবা-মা—অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আক্কাস আলী মোল্লা এবং প্রফেসর মালেকা আক্তার শিখা—গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছেন। আক্কাস আলী বলেন, “আমার দুই মেয়ে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নই ছিল তাদের লক্ষ্য, আর আজ তারা সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে।”
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
রাজবাড়ীর স্থানীয়রা এই সাফল্যে ভীষণ উচ্ছ্বসিত। মামা রকিবুল হাসান পিয়াল বলেন, “আমরা চাই তারা মানবিক চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করুক।” এই অর্জন নতুন প্রজন্মের কাছে একটি অনুপ্রেরণার বার্তা হিসেবে ধরা পড়ছে।
চূড়ান্ত বিশ্লেষণ
একসঙ্গে দুই বোনের বিসিএস জয় শুধু পারিবারিক গৌরব নয়, বরং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি বড় অনুপ্রেরণা। অধ্যবসায়, স্পষ্ট লক্ষ্য এবং পরিবারিক সমর্থন থাকলে সাফল্য অর্জন অসম্ভব নয়—শশী ও আরশির সাফল্য তারই জীবন্ত উদাহরণ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১। শশী ও আরশি কোন ক্যাডারে নির্বাচিত হয়েছেন?
উত্তরঃ তারা দুজনেই স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রশ্ন ২। তাদের শিক্ষাজীবন কোথায় শুরু হয়েছিল?
উত্তরঃ রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করার পর তারা যথাক্রমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।
প্রশ্ন ৩। তাদের এই অর্জনের তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ এটি প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় এবং পারিবারিক সমর্থন থাকলে একসঙ্গে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্রঃ





