লেখকঃ নিশি আক্তার
একসময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ায় ভীষণ হতাশ হয়েছিলেন রাকিবুল ভূঁইয়া। মনে হয়েছিল, এখানেই হয়তো থেমে যাবে স্বপ্নের পথচলা। কিন্তু সেই ব্যর্থতাই তাঁর জীবনে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে আসে। দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে তিনি শুরু করেন নতুন এক যাত্রা—নিজেকে বিশ্বের সেরা শিক্ষার্থীদের কাতারে নিয়ে যাওয়ার যাত্রা।
রাকিবুলের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে নিজের জায়গা তৈরি করা। শুরুটা সহজ ছিল না। অসংখ্য আবেদন, ব্যর্থতা, রাতভর জেগে লেখা স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP), আর অবিরাম পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই তিনি এগিয়ে যান স্বপ্নপূরণের পথে। অবশেষে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল মেলে—তিনি ভর্তি হন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে।
আরও গর্বের বিষয়, রাকিবুল পেয়েছেন উইডেনফেল্ড-হফম্যান স্কলারশিপ অ্যান্ড লিডারশিপ প্রোগ্রাম (WHD Scholarship) যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেউ অর্জন করেছেন Bachelor of Civil Law (BCL) প্রোগ্রামের জন্য। এই স্কলারশিপ শুধুমাত্র একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি নয়, বরং নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক চিন্তার প্রতীক।
রাকিবুল জানান, বাংলাদেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখলেও আত্মবিশ্বাসের অভাব ও সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় তারা পিছিয়ে যায়। তিনি ইউটিউব, লিংকডইন ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের প্রস্তুতির পথ তৈরি করেছেন। কারও সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে নিজের মেন্টর নিজেই হয়েছেন।
বর্তমানে অক্সফোর্ডে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। প্রতিটি সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি শুধু আইন নয়, ন্যায়বিচার, মানবতা ও নেতৃত্বের গভীর অর্থ শিখছেন। তাঁর মতে, সত্যিকারের শিক্ষা তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে রাকিবুল বলেন, “আমি এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে বিচার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় না। মানুষ দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার পাবে—এটাই আমার স্বপ্ন।”
তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, ব্যর্থতা কখনও পথের শেষ নয়—বরং সেটিই হতে পারে নতুন সূচনার প্রথম ধাপ।
তথ্যসূত্র: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট




