লেখকঃ নিশি আক্তার
বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকা (BDT 200 বিলিয়ন) খরচ হচ্ছে শুধু নগদ অর্থ ছাপাতে। কাগজের নোট ছাপা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা, পুরনো নোট পরিবর্তন এবং নতুন নোট বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই বিপুল অর্থ সরকার ব্যয় করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঙ্কটি দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং যদি দেশের লেনদেন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ডিজিটাল বা ক্যাশলেস হয়ে ওঠে, তবে এই অর্থ দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামোকে নতুন মাত্রা দেওয়া সম্ভব।
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে পুরনো নোট বাতিল করে নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে। তবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতি বছর নতুন নোট ছাপা ও লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া নোট পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতেও সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি দেশ ক্যাশলেস অর্থ ব্যবস্থার দিকে ধীরে ধীরে এগোতে পারে, তাহলে কেবল নগদ ছাপার খরচই কমবে না, বরং লেনদেন আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও দক্ষ হবে। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, মোবাইল ব্যাংকিং এবং অনলাইন লেনদেন ইতিমধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যবস্থাগুলোকে আরও প্রসারিত করলে মানুষকে সময়, খরচ এবং ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
একজন অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন: বাংলাদেশ যদি নগদবিহীন লেনদেনে পুরোপুরি রূপান্তরিত হতে পারে, তবে এই ২০ হাজার কোটি টাকায় তৈরি করা সম্ভব হাজারো স্কুল, হাসপাতাল, সেতু, রাস্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গ্রামীণ অবকাঠামো। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিপুল সুযোগ তৈরি করবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাশলেস অর্থনীতি শুধু সরকারের ব্যয় কমাবে না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ হবে। মানুষ দ্রুত লেনদেন করতে পারবে, আর দূরবর্তী এলাকার মানুষও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা পাবে। ফলে দেশের অর্থনীতি হবে আরও গতিশীল এবং দুর্নীতি বা অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান ডিজিটাল ব্যাংকিং অবকাঠামো দিনে দিনে শক্তিশালী হচ্ছে। বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংক, ই-ওয়ালেট এবং অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এসব পদক্ষেপ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও এগিয়ে নেবে এবং নগদ অর্থে নির্ভরতা কমাবে।
কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের আর্থিক ভবিষ্যত যদি ক্যাশলেস লেনদেনের দিকে যায়, তবে প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকা খরচের পরিবর্তে তা দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। শুধুমাত্র সরকারি খরচই নয়, বরং সাধারণ মানুষের সময়, শক্তি ও ঝুঁকিও কমবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক




