লেখকঃ নুজহাত জাহান নিহান
ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক বাংলাদেশে চালুর মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই ১,৮০০টি সক্রিয় ব্যবহারকারী টার্মিনাল অর্জন করেছে। তবে যন্ত্রপাতি প্রেরণ ও স্থাপনে লজিস্টিক জটিলতার কারণে আরও ২,৫০০টি অর্ডার এখনো সরবরাহ অপেক্ষায় রয়েছে।
স্টারলিংক ইতোমধ্যে গাজীপুর, রাজশাহী ও যশোরে গেটওয়ে স্থাপন করেছে এবং স্থানীয় অংশীদার হিসেবে রবি আজিয়াটা ও বিএসসিএল এর সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে দুটি ভোক্তা পরিকল্পনায় সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সরবরাহের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এর আগে, স্পেসএক্সের গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার জোয়েল মেরেডিথ ও গ্লোবাল লাইসেন্সিং ম্যানেজার পার্নিল উর্ধওয়ারেশে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) ও আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে স্টারলিংকের সেবা চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিএসসিএল চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ৫টি স্টারলিংক টার্মিনাল আনা হয়েছে এবং ডাউনলোড স্পিড প্রায় ৫০০ এমবিপিএস পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আইসিটি বিভাগ দুটি স্টারলিংক ডিভাইস পেয়েছে একটি ব্যবহার হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে, আরেকটি নারী বাসে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, সংযোগের গতি প্রায় ১৫০ এমবিপিএস পর্যন্ত স্থিতিশীল ছিল।
তিনি আরও জানান, আগামী তিন মাস ধরে এসব ডিভাইস বৃষ্টি, কুয়াশা ও খারাপ আবহাওয়ায় কেমন কাজ করে তা বিশ্লেষণ করা হবে। পরবর্তীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে স্টারলিংকের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু হলে দেশের দূরবর্তী ও উপকূলীয় অঞ্চলে সংযোগ সমস্যার সমাধান হবে। তবে তারা সতর্ক করছেন, অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হলে এ খাতে টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়।
বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রায় ৪,৫০০টির বেশি স্যাটেলাইট কক্ষপথে সক্রিয় রয়েছে, যা বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে।
Source – The daily Star Bangla



