দ্য ডেইলি করপোরেট ডেস্ক
ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম PayPal-এর কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে PayPal চালুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রায় ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে একাধিক নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে ২৯ জুলাই চালু হওয়া Digital Value Account (DVA) কাঠামো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর আওতায় স্থানীয় ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে গ্রাহকদের বৈদেশিক মুদ্রাভিত্তিক ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট দেওয়ার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে PayPal-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জবাবে PayPal তাদের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে।
তাহলে কবে আসছে PayPal?
এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা লঞ্চ ডেট নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, PayPal-এর বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় কোনো প্রযুক্তিগত বা নীতিগত বাধা নেই। বরং বিষয়টি মূলত PayPal-এর নিজস্ব ব্যবসায়িক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
একই সময়ে দেশের কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকও PayPal, Google Wallet, Wise ও Payoneer-এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের একটি বড় অংশ বর্তমানে Payoneer, Wise ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণ করেন। PayPal আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে এলে বৈদেশিক আয় দেশে আনার জন্য আরও একটি বড় আন্তর্জাতিক পেমেন্ট চ্যানেল তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক সেবার বিপরীতে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থপ্রবাহ রয়েছে। তবে অনানুষ্ঠানিক ফ্রিল্যান্সিং আয় ও বৈদেশিক ব্যয় মিলিয়ে সম্ভাব্য বাজার ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।
ফলে PayPal-এর প্রবেশ শুধু ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নয়, বরং আইটি সেবা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ভ্রমণ, শিক্ষা ও ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সংক্ষেপে: PayPal আসার পথ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত, কিন্তু কবে চালু হবে—এখনও তার নির্দিষ্ট উত্তর নেই।




