লেখকঃ নিশি আক্তার
ঢাকা, ৫ অক্টোবর ২০২৫ — একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা দেশের পাঁচটি ইসলামিক ব্যাংকের শেয়ারমূল্যে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গত এক বছরে শেয়ারদর টানা নিম্নমুখী থাকার পাশাপাশি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ও ব্যাপক বিক্রিচাপে বাজারে বড় ধস নেমেছে। শুধু গত তিন মাসেই (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) এই পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে ৯২৬ কোটি টাকা উবে গেছে। লেনদেনের তথ্য বলছে, অনেক বিনিয়োগকারী আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন, যার ফলে ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্তে বাজারে অনিশ্চয়তা সরকার সম্প্রতি ইসলামিক ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাঁচটি ইসলামিক ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়। এই ঘোষণার পর থেকেই বাজারে নানা ধরণের গুজব ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা—যদি কোনো দুর্বল ব্যাংক শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়, তবে তা আর্থিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, “একীভূতকরণের মাধ্যমে সরকার খাতের স্থিতিশীলতা আনতে চাইলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো নিশ্চিত নন, এই প্রক্রিয়া কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।”
বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কে ব্যাপক বিক্রি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই ব্যাংক খাতে আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নতুন প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের পোর্টফোলিও থেকে ব্যাংক শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং একীভূতকরণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করা জরুরি।
বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব শেয়ারবাজার পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বর্তমানে ইসলামিক ব্যাংকগুলোর বাজারমূল্য হ্রাস পেলেও দীর্ঘমেয়াদে একীভূত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে খাতটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এতে পরিচালন ব্যয় কমবে, সম্পদের গুণমান বাড়বে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসবে।
একজন অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেন, “একীভূতকরণ শুধু টিকে থাকার কৌশল নয়, বরং ইসলামিক ব্যাংক খাতকে নতুন কাঠামোয় পুনর্গঠন করার সুযোগ তৈরি করবে। তবে সেক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্রুত স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করবে যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তথ্যপ্রকাশের স্বচ্ছতা ও সঠিক নীতিমালা থাকলে ইসলামিক ব্যাংকগুলোর শেয়ারমূল্য আগামী প্রান্তিকে স্থিতিশীল হতে পারে।
তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ ব্যাংক – ইসলামিক ব্যাংক খাতের একীভূতকরণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত নীতিমালা




