দ্য ডেইলি করপোরেট ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মূলধন সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং ভবিষ্যতে ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যুর সুযোগ তৈরি করতে অনুমোদিত মূলধন (Authorised Capital) ১,৫০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৫০০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (DBBL)।
গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৭ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর প্রস্তাবটি আগামী ১৫ অক্টোবর বিশেষ সাধারণ সভায় (EGM) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এ জন্য ২০ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঘোষণার পর ডিএসইতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শেয়ারের দাম ১.১০ শতাংশ বেড়ে ৪৬ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মূলধন শর্ত
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর উদ্যোগের মূল কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা।
গত ২৩ মে জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন (Paid-up Capital) ২,০০০ কোটি টাকা থাকতে হবে।
বর্তমানে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১,০১৫ কোটি টাকা। ফলে নির্ধারিত সীমা পূরণ করতে ব্যাংকটির আরও ৯৮৫ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি রয়েছে।
এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংককে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোনাস শেয়ার অথবা রাইট শেয়ার ইস্যু করতে হতে পারে। অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের শেয়ার ইস্যুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুযোগ তৈরি হবে।
২০২৫ সালের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।
নতুন নীতিমালার অধীনে মূলধন শক্তিশালী করা ব্যাংকটির ভবিষ্যতে লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পর্যাপ্ত মূলধন থাকা ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও ঘোষিত লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদে পরিশোধ করা যাবে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় বড় উল্লম্ফন
এদিকে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এপ্রিল-জুন সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) ৯৪৭ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৭৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে পুনঃনির্ধারিত EPS ছিল ১৭ পয়সা।
চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকটির EPS ৩১৮ শতাংশ বেড়ে ৪ টাকা ৩৫ পয়সায় উঠেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে পুনঃনির্ধারিত EPS ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা।
৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAV) ছিল ৬১ টাকা ১৫ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (NOCFPS) বেড়ে ১৩ টাকা ৮৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
ডেটা সেন্টারের জন্য সাভারে জমি কিনবে ব্যাংক
এদিকে ডিজিটাল ব্যাংকিং অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সাভারের বাইপাইলে ১৬ দশমিক ৬০ ডেসিমাল জমি কেনার অনুমোদন দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
জমিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে জমিটি ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (DEPZ)-এ ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চলমান ডেটা সেন্টার প্রকল্প সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে।
প্রকল্পটি ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রমের সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS)




