বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (Export Development Fund – EDF) ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন Federation of Bangladesh Chambers of Commerce and Industry (FBCCI)।
ঢাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর FBCCI-এর মহাসচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে এ আশ্বাস দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
বর্তমানে রপ্তানি খাতের জন্য গঠিত এই তহবিলটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে পরিচালিত হয়। একসময় এই তহবিলের আকার প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
ব্যবসায়ী নেতারা তহবিলটি পুনরায় ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন এবং গভর্নর এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ধাপে ধাপে বৃদ্ধির আশ্বাস দেন বলে জানান আলমগীর।
এছাড়া বৈঠকে ঋণের সুদের হার স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সুদের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
তারা আরও সুপারিশ করেন, ধীরে ধীরে ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা উচিত।
ব্যবসায়ী নেতারা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোরও আহ্বান জানান এবং বলেন, সরকারি খাতের ঋণের চাপ কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (BKMEA) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, EDF সম্প্রসারণের প্রস্তাব গভর্নরের সম্মতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, “আইএমএফের শর্তের কারণে তহবিল কমানো হয়েছিল। আমরা প্রথম ধাপে এটি ২.৫ বিলিয়ন থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে এবং পরে ৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, বৈঠকে ঋণ শ্রেণিবিন্যাস নীতিমালা শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে ঋণ পরিশোধে তিন মাস বিলম্ব হলে গ্রাহককে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। ব্যবসায়ীরা এই সময়সীমা ছয় মাসে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন।
এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ খেলাপি হলে তার সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই শ্রেণিতে ফেলার নিয়ম শিথিল করার আহ্বান জানানো হয়।
ঋণ পুনঃতফসিলের পর বর্তমান চার থেকে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর পর্যন্ত পরিশোধ সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন ব্যবসায়ীরা।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে স্বল্প সুদে সবুজ অর্থায়ন সুবিধা চালুর সুপারিশও করা হয়।




