spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

রোবোটিক্স নিয়ে চাকরি, ব্যবসা আর গবেষণার নতুন দিগন্ত বাংলাদেশে!

লেখকঃ ফারহানা হুসাইন 

বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও রোবোটিক্স ক্ষেত্রটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। এটি এখন শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।চলুন জেনেই নেই রোবোটিক্স কি এবং বাংলাদেশে কি কি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে?

রোবোটিক্স কি?

রোবোটিক্স হল বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের একটি শাখা, যেখানে রোবট তৈরি, নকশা, নির্মাণ, কার্যক্রম এবং প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করা হয়। এই ক্ষেত্রটি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ইলেকট্রনিক্স, এবং যান্ত্রিক প্রকৌশল সহ বিভিন্ন শাখার সাথে সম্পর্কিত।

রোবট কি?

রোবট হলো একটি স্বয়ংক্রিয় বা আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, যার কাজকর্ম, অবয়ব ও চলাফেরা অনেকটাই মানুষের মতো। এটি বিভিন্ন কাজে মূলত মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

রোবটের মূল কাজ হলো পূর্ব-নির্ধারিত প্রোগ্রাম বা নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা। তবে এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংযুক্ত থাকলে, রোবট নিজেই পরিবেশ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়।

এর কিছু বৈশিষ্ট্য হলো – 

১.রোবট পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম বা সেন্সরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে, মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই।

২. সেন্সর ব্যবহার করা হয় বলে এর পরিবেশ অনুভব করার ক্ষমতা আছে।

৩. রোবট দীর্ঘ সময় ধরে বিরামহীনভাবে এবং নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে। 

৪. চলনক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ চাকা, পা, কিংবা ড্রোনের মতো উড়তে পারে এমন প্রযুক্তি যুক্ত থাকলে এটি স্থানান্তর করতে পারে।

৫. ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক কাজে (যেমন আগুন নেভানো, পারমাণবিক গবেষণা, মহাকাশ মিশন) রোবট ব্যবহার করা হয়, যেখানে মানুষের জন্য কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

৬. উন্নত রোবটগুলোতে AI প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে চারপাশ থেকে ডেটা সংগ্রহ করে এবং তা বিশ্লেষণ করে রোবট নিজে থেকেই  সিদ্ধান্ত নিতে, শেখার মাধ্যমে উন্নতি করতে এবং জটিল পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশে রোবোটিক্সের ব্যবহার

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়নের সাথে সাথে মানব জীবনের প্রতিটি স্তরে এখন রোবটের ব্যবহার ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও রোবোটিক্স বর্তমানে বিভিন্ন শিল্প কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

১. অগ্নিনির্বাপণে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো হাইটেক রোবট ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস। এলইউএফ-৬০ (LUF-60) নামক এই রোবটটি রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা পরিচালিত হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে দুটি এলইউএফ-৬০ (LUF 60) রোবট রয়েছে। এছাড়াও ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে বিশেষ ড্রোন।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ান প্রযুক্তিতে তৈরি LUF-60 মডেলের রোবটটি অত্যন্ত দক্ষভাবে কাজ করতে সক্ষম। এটি ধোঁয়া, তাপ এবং বিষাক্ত গ্যাস সরিয়ে আগুনের তীব্রতা কমাতে পারে। রোবটটি প্রায় ৩০০ মিটার দূর পর্যন্ত পানি বা ফোম স্প্রে করতে পারে, এবং প্রতি মিনিটে প্রায় ২,৪০০ লিটার পানি নিক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখে। এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রোবটটি বিশেষ করে বিস্ফোরক বা অতিবিপজ্জনক অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্বে থেকে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

২. শিক্ষাক্ষেত্রে 

বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রোবোটিক্স নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ‘রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি বিভাগ চালু করে। এরপর ২০১৬ সালে বুয়েট রোবট নিয়ে গবেষণা করার জন্য “রোবোটিকস সোসাইটি” গঠন করে যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫০০।এই সোসাইটির অধীনে প্রতি বছর অন্তত একটি করে হলেও ন্যাশনাল ইভেন্টের আয়োজন করা হয়ে থাকে। 

এছাড়াও BRAC University তে তৈরি রোবট ‘Nabik’ প্রথমে ফেনী এবং পরে নোয়াখালী অঞ্চলে বন্যা-আক্রান্ত এলাকায় জল পরিস্থিতি নিরীক্ষণ ও উদ্ধারকাজে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

৩. পোশাক খাতে 

বাংলাদেশের রপ্তানিকারক পোশাক শিল্পে DBL Group ও Envoy Textile সহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অটোমেশন ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, রিমোট মনিটরিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল সম্ভব হচ্ছে। পোশাক শিল্পে বর্তমানে আনুমানিক ১০০টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট স্থাপিত রয়েছে।

৪. কৃষিক্ষেত্রে 

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (AIUB)-এর পরিচালিত এক গবেষণায় জানা যায়, দেশের কৃষিক্ষেত্রে BARI (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট), IRRI (আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট), FAO (খাদ্য ও কৃষি সংস্থা) এবং বিভিন্ন স্টার্টআপ ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে কৃষি রোবট ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১৫ সালে যেখানে মাত্র ২০টি রোবট কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছিলো, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩,০০০ টি-তে।  যেখানে 

স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাষাবাদ করা জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫৫,০০০ হেক্টর পর্যন্ত। রোবোটিক্সের ব্যবহার কৃষিক্ষেত্রে শ্রম খরচ প্রায় ২০% পর্যন্ত কমিয়ে এনেছে, পাশাপাশি ফসল ক্ষতির হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

৫. খাবার পরিবেশনে 

২০১৭ সালে মিরপুর রোডের আসাদ গেটে চালু করা হয় দেশের প্রথম “রোবট রেস্টুরেন্ট” ।  এই রেস্তোরায় দুটি হিউম্যানয়েড রোবট ওয়েটার ছিল যারা টেবিল নম্বর চিনে গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করত। 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা 

রোবোটিক্সের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই খাতে নতুন নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে –

১. কৃষিখাত

ড্রোন প্রযুক্তি বা রোবট ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে ফলন বৃদ্ধি, আগাছা পরিষ্কার বা জমি চাষ করার মতো কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকল্প চালু করেছে। যেমন –

– বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) কিছু এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে জমি পর্যবেক্ষণের পাইলট প্রোগ্রাম চালু করেছে।

– বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন iPage AgroTech ও Rokkhi Robotics কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে কাজ করছে।

– কিছু স্টার্টআপ ইতোমধ্যে “Precision Agriculture” এর ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেছে, যেখানে রোবট বা ড্রোন ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জায়গায় সার বা পানি প্রয়োগ করা হবে। 

২. চিকিৎসা খাত

কোভিড-১৯ এর সময় দেশে টেলিমেডিসিন ও রোবোটিক্স প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে পেরেছেন। এছাড়াও কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রোবট হেল্পডেস্ক চালু করে, যা রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। 

এছাড়া সাম্প্রতিককালে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি LFR (Logistics/Food/Medicine Robot) মডেল তৈরি করেছে। এই মডেল ওষুধ ও সামগ্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে দিতে সক্ষম। 

৩. শিক্ষাক্ষেত্রে 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রোবোটিক্স চর্চার জন্য এখন আলাদা বিভাগ খোলা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

দেশ রূপান্তর পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুসারে, “দেশ-বিদেশের নানা আয়োজনে পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা। এর মধ্যে আছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের (আইআরও) ২১তম আসরে একটি স্বর্ণ ও দুটি রৌপ্যসহ ১০টি পদক অর্জন। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ার লংকাউয়িতে অনুষ্ঠিত ‘আইইইই-আরএএস ইন্টারন্যাশনাল রোবট প্রাইড কম্পিটিশন-২০১৫’-এ স্বর্ণপদক পায় বুয়েটের ‘টিম দিশারি’।‘ম্যাপ-এক্সপ্লোরার’ নামে একটি রোবট বানিয়েছিল তারা যা ধ্বংস স্তূপের নিচে গিয়ে মানুষের অবস্থান নির্ণয় করতে পারবে, দূর থেকে রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং রোবটের সঙ্গে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সরাসরি পর্দায় ভেসে উঠবে।”

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি স্কুল-কলেজেও রোবোটিক্স শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন – The Tech Academy, Sirena Technologies, ও SciTech Academy রোবোটিক্স ও STEM ভিত্তিক কোর্স চালু করেছে। এই কোর্সগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষ হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছে। 

৪. রপ্তানিখাত

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রোবট রপ্তানির স্বপ্নকে সর্বপ্রথম বাস্তবে রূপ দেন রিনি ঈশান ও রাকিব রেজা নামের এক স্বপ্নদর্শী দম্পতি, যাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘প্ল্যানেটার লিমিটেড’ নামের একটি রোবোটিক্স কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম রোবট রপ্তানি করে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সলিউশন ব্যাংক প্লাস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে একটি ত্রিমাত্রিক কংক্রিট প্রিন্টার রোবট পাঠানো হয় যার রপ্তানিমূল্য ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা প্রায় ২১০০ মার্কিন ডলার। এটি নকশা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কংক্রিট দিয়ে ত্রি-মাত্রিক স্থাপনা নির্মাণ করতে সক্ষম, বাংলাদেশে যেখানে ত্রি-মাত্রিক প্রিন্টার দিয়ে সাধারণত প্লাস্টিক দ্রব্যাদি প্রিন্ট করতে দেখা যায়। 

এটি শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, বরং বাংলাদেশের রোবোটিক্স শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের এক অনন্য উদাহরণ।

৫. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি  

বাংলাদেশে রোবোটিক্স খাতে দ্রুত অগ্রগতির ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে, রোবোটিক্স প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রোবট ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, মেইনটেন্যান্স এবং অপারেশনাল কাজের জন্য দক্ষ জনশক্তির চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন রোবোটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্টার্টআপ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং রোবট নির্মাতা কোম্পানি গড়ে উঠছে, যেখানে প্রকৌশলী, প্রশিক্ষক, কনটেন্ট ডেভেলপার ও টেকনিশিয়ানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা রোবোটিক্স শিখে ফ্রিল্যান্সিং, প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোক্তা হওয়া, কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে।

রোবটের বর্তমান ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: একটি তুলনামূলক টেবিল

ক্ষেত্র / খাত বর্তমান ব্যবহারভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
কৃষি– কৃষি রোবটের ব্যবহার – স্বয়ংক্রিয় চাষাবাদ– ড্রোন পর্যবেক্ষণ– ফসল রোপণ ও আগাছা পরিষ্কার– স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমিতে সার ও পানি প্রয়োগ– AI-চালিত বিশ্লেষণ– রোগ শনাক্তকরণ
শিক্ষা – বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও প্রতিযোগিতা– দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন মডেল তৈরী – শিশুদের রোবোটিক্সের প্রতি আগ্রহী করে তোলা।– ইন্টার‍্যাকটিভ লার্নিং রোবট
চিকিৎসা – কোভিডকালে রোবটিক হেল্পডেস্ক– নিরাপদ ডেলিভারি– প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ– রোবটিক সার্জারি– LFR মডেলের ব্যবহার – AI নির্ভর রোগ নির্ণয়
শিল্প – গার্মেন্টস সেক্টরে অটোমেশন ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার– সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইন– স্মার্ট ফ্যাক্টরি সিস্টেম– আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ রোবোটিক্স খাতের প্রসার 
নিরাপত্তা ও উদ্ধার– অগ্নিনির্বাপণ রোবট (LUF-60)– ড্রোনে পর্যবেক্ষণ– স্মার্ট নজরদারি রোবট– বিপজ্জনক এলাকায় সেন্সরযুক্ত স্বয়ংক্রিয় উদ্ধারকারী রোবট
সার্ভিস– রোবট ওয়েটার– সম্পূর্ণ রোবটিক রেস্টুরেন্ট, – অর্ডার নেওয়া ও বিলিংয়ে রোবটিক অটোমেশন

বাংলাদেশে রোবোটিক্সের ব্যবহার একটু দেরিতে শুরু হলেও বর্তমানে রোবটের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে; যা এই খাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ-কে আরো সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। 

প্রশ্নোত্তর 

১. রোবোটিক্স কী?

উত্তর: রোবোটিক্স হচ্ছে এক ধরনের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শাখা, যেখানে রোবট ডিজাইন, তৈরি, প্রোগ্রামিং এবং পরিচালনা করা হয়। এতে কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিক্স ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সংমিশ্রণ থাকে।

২. বাংলাদেশে রোবোটিক্স প্রযুক্তি কোথায় কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে?

উত্তর: বর্তমানে বাংলাদেশে রোবোটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পোশাকশিল্প, অগ্নিনির্বাপন, শিক্ষা এবং খাবার পরিবেশনের মতো খাতে।

৩. বাংলাদেশে রোবোটিক্স নিয়ে পড়াশোনা কোথায় করা যায়?

উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সহ আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক্স বিষয়ক বিভাগ বা কোর্স চালু রয়েছে।

৪. বাংলাদেশে রোবোটিক্সের ভবিষ্যৎ কেমন?

উত্তর: রোবোটিক্সের ব্যবহার ও আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা খাতে এর প্রয়োগ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থানের ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করবে।

৫. রোবোটিক্স খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কেমন?

উত্তর: রোবোট ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, রোবট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, রোবোটিক্স প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ বাড়ছে।

৬. বাংলাদেশে তৈরি কোনো রোবট কি বিদেশে রপ্তানি হয়েছে?

উত্তর: হ্যাঁ, ‘প্ল্যানেটার লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানি দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ত্রিমাত্রিক কংক্রিট প্রিন্টার রোবট রপ্তানি করে ২০১৮ সালে।

৭. কোভিড-১৯ এর সময় রোবট কিভাবে ব্যবহার হয়েছে?

উত্তর: রোবট ব্যবহার করে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া হয়েছে, রোবট হেল্পডেস্ক রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসা সহায়তায় ব্যবহৃত হয়েছে।

৮. বাংলাদেশে কী ধরনের রোবোটিক স্টার্টআপ আছে?

উত্তর: iPage AgroTech, Rokkhi Robotics, Planetar Limited-এর মতো স্টার্টআপ কৃষি, নিরাপত্তা ও শিল্পখাতে স্মার্ট রোবোটিক সমাধান নিয়ে কাজ করছে।

৯. রোবোটিক্স শেখা শুরু করতে কী লাগবে?

উত্তর: কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ইলেকট্রনিক্স ও বেসিক মেকানিক্সের ধারণা থাকলে রোবোটিক্স শেখা সহজ হয়। অনলাইন কোর্স, ইউটিউব টিউটোরিয়াল ও বিভিন্ন অ্যাকাডেমির সাহায্য নেওয়া যায়।

১০. ছোটদের জন্য রোবোটিক্স শেখার সুযোগ কোথায় আছে?

উত্তর: The Tech Academy, Sirena Technologies, SciTech Academy-এর মতো প্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য রোবোটিক্স ও STEM ভিত্তিক কোর্স চালু করেছে।

তথ্যসূত্র 

  1. Rover ‘Nabik’ prepares for second deployment in flood-affected areas
  2. সীতাকুণ্ডের আগুন নেভাতে প্রথমবারের মতো হাইটেক রোবট ব্যবহার

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article

ড্রোন হামলায় দুবাইয়ের মার্কিন দূতাবাসে আগুন

দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ড্রোন হামলায় আগুন লাগে; সৌদি আরব ও কুয়েতের মার্কিন দূতাবাসেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবে কর্মীরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন...

মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানে ১ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত

ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ৯৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান...

করাচি ও লাহোর থেকে ‘নন ইমার্জেন্সি’ কর্মীদের পাকিস্তান ত্যাগের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আজ বুধবার জানিয়েছে, করাচি ও লাহোরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে নন ইমার্জেন্সি (জরুরি নয় এমন) কর্মীদের এবং তাদের পরিবারকে নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তান...

বাংলাদেশের রিটেইল খাতে স্পপ্ন ও মিতসুইয়ের কৌশলগত চুক্তি

বাংলাদেশের আধুনিক খুচরা বাজারে বড় ধরনের সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান Mitsui & Co. (Asia Pacific) Pte. Ltd.–এর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে...