spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

১২,০০০ কোটি টাকার তিস্তা পরিকল্পনা – চীনের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের প্রকল্প

লেখকঃ কাজী গণিউর রহমান 

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো জাগাবে ‘তিস্তা মহাপ্রকল্প’—যা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রকল্পটি তিস্তা নদী সংক্রান্ত বিস্তর পরিকল্পনা নিয়ে তৈরিকৃত এবং এটি বাংলাদেশের আর্থিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মূল পরিশীলন ও শুরু করার প্রস্তুতি

সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) ইতিমধ্যে চীনা সরকারের কাছে ‘তিস্তা মাস্টার প্ল্যান’ প্রেরণ করেছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ বছর মেয়াদি প্রকল্পের রূপরেখা নির্ধারণ করে। এই পরিকল্পনার প্রথম পাঁচ বছরে প্রধানভাবে কেন্দ্র হবে সেচ ব্যবস্থা, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী বাউন্ডারি অবস্থিত করা। পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ হলে, প্রায় ৳১.২ ট্রিলিয়ন (১২,০০০ কোটি টাকা) খরচ হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিশ্চিত করেছেন, “বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে এই পরিকল্পনা চালাতে কাজ করছে এবং আমরা আশা করি ২০২৬ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে যাবে।”

দ্বিপাক্ষীয় সহযোগিতা ও ভূ-রাজনৈতিক পারিপার্শ্বিকতা

চীনারাও এই প্রকল্পে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে۔ চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীন তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত, যা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশও আবেদন করেছে চীনা কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে—বিশেষ করে হাইড্রোলজিক্যাল পূর্বাভাস, নদী খনন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক ও নদী অগ্নিপরীক্ষা

তিস্তা নদীর জলবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ চলমান। ১৯৮৩ সালে সাময়িক সমঝোতা হয়েছিল (ভারত: ৩৯% ও বাংলাদেশ: ৩৬%), ২০১১ সালে একটি খসড়া চুক্তি তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য মন্ত্রীর আপত্তিতে বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে, চীনের সহায়তায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশ কিছুটা কূটনৈতিক ও প্রাকৃতিক সুবিধা পেতে পারে। তবে ভারতীয় প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া ও জলবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যত এখনও প্রশ্নবিদ্ধ।

তিস্তা মহাপ্রকল্প পয়েন্টস

বিষয়তথ্য বা বিবরণ
প্রকল্প সূচনা সময়জানুয়ারী ২০২৬ থেকে
প্রকল্প মেয়াদ১০ বছর
মোট বাজেট৳১২,০০০ কোটি টাকা
প্রথম ৫ বছরে ফোকাসসেচ, নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণ, স্থায়ী বাউন্ডারি নির্মাণ
চীনের ভূমিকাপ্রযুক্তি ও অর্থায়নে সহযোগিতা, জায়গা খনন ও হাইড্রোলজি সহায়তা
জলবণ্টন পরিস্থিতিচলতে থাকা বিতর্ক, চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১। তিস্তা মহাপ্রকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের ফসল, অবকাঠামো ও বসবাস মাহাত্ম্যপূর্ণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে; এই প্রকল্প তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভবিষ্যত সুরক্ষায় গুরুত্ব আনবে।

প্রশ্ন ২। চীনের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ও প্রযুক্তিগত সহায়তার কারণে চীন বাংলাদেশের প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর সহযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রশ্ন ৩। জলবণ্টনের বিরোধ কী ভূমিকা রাখছে?
উত্তরঃ ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিঘ্নের ফলে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনাকে কূটনৈতিকভাবে চাপের মুখে ফেলছে; তাই নিজস্ব পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র 

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article

কারখানা পুনরায় চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা

ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬ — দ্য ডেইলি কর্পোরেট ডেস্ক দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু, রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আনা এবং বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য...

আইএফআইসি ব্যাংক ও ল্যাবএইড গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ঢাকা, ২০ মে ২০২৬ — দ্য ডেইলি কর্পোরেট ডেস্ক গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নিশ্চিত করতে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এবং দেশের অন্যতম...

ব্যস্ত না, কার্যকর হোন, উদ্যোক্তাদের সময় ব্যবস্থাপনা

লিখেছেনঃ মালিহা মেহেজাবিন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক বিশ্বে একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ শুধু মূলধন, মানবসম্পদ বা প্রযুক্তি নয়; বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো সময়। অর্থ...

ব্যবসায় ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলো কী?

লেখকঃ আরেফিন রানা পিয়াস বর্তমান সময়ে ব্যবসা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ নতুন ব্যবসা শুরু করলেও বাস্তবে...