দ্য ডেইলি করপোরেট ডেস্ক
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০২৬: ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ লক্ষ্যে ধাপে ধাপে ২জি মোবাইল ফোন আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরু হবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী টিবিএসকে জানান, ২০২৪ সালের স্পেকট্রাম রোডম্যাপেই পাঁচ বছরের মধ্যে ২জি নেটওয়ার্ক ও এ প্রযুক্তিনির্ভর হ্যান্ডসেটের বাজারজাতকরণ বন্ধের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মোবাইল ফোন উৎপাদক, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এখন এ সংক্রান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হবে, তবে এ পরিবর্তনের কারণে উৎপাদক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা যাতে আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়েও কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।
২জি ফোন উৎপাদন ও আমদানিতে যেসব সময়সীমা
বিটিআরসির প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, ২জি হ্যান্ডসেট উৎপাদনের জন্য অরিজিনাল ডিজাইন ম্যানুফ্যাকচারারদের (ওডিএম) নতুন অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ থাকবে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর নতুন অনুমোদন দেওয়া হবে না।
প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি (পিসিবিএ) অনুমোদন বন্ধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ। একই বছরের ৩০ জুনের পর উৎপাদিত ২জি হ্যান্ডসেট বাজারজাতকরণের অনুমোদন দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ২জি প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও ওয়্যারলেস ডিভাইস আমদানির সুযোগ থাকবে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ২০২৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ৪জি প্রযুক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে এ রূপান্তর সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর।
তবে বিটিআরসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক বন্ধের সময়সীমা প্রয়োজনে বাড়িয়ে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হতে পারে।
৬ থেকে ৭ কোটি গ্রাহক এখনো ২জি ফোন ব্যবহার করেন
বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখনো আনুমানিক ৬ থেকে ৭ কোটি মানুষ ২জি হ্যান্ডসেট ব্যবহার করেন। তাঁদের বড় অংশই নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। ফলে পুরোনো প্রযুক্তি বন্ধের আগে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী বিকল্প নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, হ্যান্ডসেটের দাম কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে কর হ্রাসের বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কিস্তিতে সাশ্রয়ী মূল্যে ফোন কেনার সুযোগ এবং ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট (ইএমআই) ব্যবস্থায় সুদের হার কম রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, একটি ২জি হ্যান্ডসেট সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর ব্যবহার করা যায়। ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে রূপান্তরের সময়সূচি নির্ধারণে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
২জি বন্ধ হলে কী সুবিধা হতে পারে
২জি নেটওয়ার্ক বন্ধের অন্যতম লক্ষ্য হলো পুরোনো প্রযুক্তির পরিবর্তে উন্নত মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবহার বাড়ানো এবং বর্তমানে ২জি সেবায় ব্যবহৃত স্পেকট্রাম আরও আধুনিক প্রযুক্তির জন্য বরাদ্দ করা। এতে একই পরিমাণ স্পেকট্রাম ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটরদের বেশি ডেটা ও কল সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর ফলে ইন্টারনেটের গতি বাড়তে পারে এবং টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় কমতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে গ্রাহকদের ডেটা ও কলের খরচ কমানোরও সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তবে প্রস্তাবিত সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে মোবাইল ফোন শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেছেন, ২জি প্রযুক্তি থেকে সরে আসা প্রয়োজন হলেও প্রস্তাবিত সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
তাঁর মতে, এত অল্প সময়ে ৬ কোটির বেশি গ্রাহককে নতুন প্রযুক্তিতে স্থানান্তর করা সহজ হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ২জি হ্যান্ডসেটের সরবরাহ সীমিত করলেই সবার জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী হবে না। বাংলাদেশে এক হাজার টাকার কমেও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, যা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা কঠিন।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)




