লেখকঃ ফারহানা হুসাইন
বর্তমান বাজারে আবাসন/রিয়েল এস্টেট খাতে নির্মাণসামগ্রীর উচ্চমূল্য এবং আবাসন খাতে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে, গৃহঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণগ্রহীতার নিট আয় ও মাসিক কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলো এখন সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দিতে পারবে।
তবে গৃহঋণের এই নতুন সীমা সব ব্যাংকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে না। সংশোধিত প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশন ২৩ অনুযায়ী :
➡ যেসব ব্যাংকের গৃহঋণে খেলাপি ঋণের হার ≤ ৫% → সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা
➡ খেলাপি ঋণের হার ৫–১০% → সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা
➡ খেলাপি ঋণের হার > ১০% → সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ প্রদান করতে পারবে।
তবে গৃহঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হলেও ঋণ–মূলধন (Debt–Equity) অনুপাত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ–মূলধনের অনুপাত আগের মতোই ৭০:৩০ থাকবে। অর্থাৎ, কোনো সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাকে মোট মূল্যের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে যোগান দিতে হবে এবং বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যাংক থেকে গৃহঋণ হিসেবে নেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এই নতুন নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী জারি করেছে, যা ২০০৪ এবং ২০১৯ সালে জারি করা পুরনো সার্কুলারগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে। তবে ভোক্তা ঋণসংক্রান্ত অন্যান্য নিয়ম ও শর্তাবলী আগের মতোই বহাল থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন আবাসন খাতে বিনিয়োগ ও চাহিদা বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির কারণে আবাসন খাত কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে। নতুন ঋণসীমা সেই চাপ কাটাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুনঃ
- দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ–চীনের সহযোগিতা জোরদার
- বাংলাদেশে শ্রম আইন সংস্কার, সরকার ও নিয়োগকর্তার সমঝোতায় বড় রদবদল
- ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে উঠবে যেসব ইন্ডাস্ট্রি
তথ্যসূত্র-





