দ্য ডেইলি করপোরেট ডেস্ক
ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২৬: ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। শিগগিরই এক বছরের পরিবর্তে একসঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
রোববার ঢাকায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও ডিএসসিসির যৌথ আয়োজনে ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, যানজট ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সেবা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমানে প্রতিবছর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় একবার নবায়ন করলেই পাঁচ বছরের জন্য লাইসেন্স কার্যকর রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সময় ও প্রশাসনিক হয়রানি কমবে।
তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করার দিনই লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না।
ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া ৩ হাজার টাকা সিটি করপোরেশনের রাজস্ব হিসেবে জমা হয় না উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ীদের এ ফি কমানোর দাবি সরকারের কাছে তোলার পরামর্শ দেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর জনস্বার্থে কর, ট্রেড লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড ফি বাড়ানোর বেশ কিছু প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। তবে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের কাছ থেকে সাইনবোর্ড ফি যথাযথভাবে আদায় হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ
ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের ঘরে বসেই কর পরিশোধ এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দিতে অনলাইন ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরির ঘটনা ঘটায় ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
পুরান ঢাকার ব্যবসায়িক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তরা বা অন্য এলাকায় চলে গেলে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ব্যবসায়িক গুরুত্ব কমে যেতে পারে। তাই পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
যানজট ও ফুটপাত নিয়েও উদ্বেগ
রাজধানীর যানজট ও বিশৃঙ্খলার জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং ফুটপাত দখল করে থাকা অনিয়ন্ত্রিত হকারদেরও দায়ী করেন আব্দুস সালাম।
তিনি বলেন, মানবিক কারণে হকারদের পুরোপুরি উচ্ছেদ করা হবে না। বরং তাদের পুনর্বাসন এবং একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে রিকশা ও হকারদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা ও হকারের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি করে সেই অনুযায়ী লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএসসিসির মালিকানাধীন মার্কেটগুলোর ভাড়া, কর ও ট্রেড লাইসেন্সসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বকেয়া ও জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
রাসায়নিক ও পলিথিন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স প্রসঙ্গে আব্দুস সালাম বলেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া নিষিদ্ধ এসব ব্যবসার লাইসেন্স সিটি করপোরেশন এককভাবে দিতে পারে না। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সুবিধার জন্য সেবা আরও সহজ ও জনবান্ধব করা হচ্ছে। ট্রেড লাইসেন্স নবায়নসহ অন্যান্য সেবা দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




